ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম

একরামুল হোসেন লিপু

তেলিগাতি কুয়েট রোডে অবস্থিত গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুল। ১৯৬৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মিত দ্বিতল বিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ভবনের পশ্চিম পাশের অংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ভবনের ছাদের পলেস্তারো খসে খসে পড়তে শুরু করেছে। ছাদ চুইয়ে প্রতিনিয়ত পানি পড়ছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে এবং পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থান ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। দোতলায় কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চারদিকে পানি জমে থাকায় ভবনের ঝুঁকির মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, একই সঙ্গে নির্মিত অ্যাকাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশের অডিটোরিয়ামটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৭ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে সেটি ভেঙে ফেলা হলেও অ্যাকাডেমিক ভবনটি সে অবস্থায় রয়েছে। ভবনটির নিচতলায় তিনটি, দোতলায় পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ছেলেদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আর মেয়েদের ক্লাস হয় তৃতীয় তলার অন্য একটি ভবনে। যে ভবনের নিচতলার অনেকাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ আবু হানিফ বলেন, ভবনটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভেঙে ফেলা হলে শ্রেণি কক্ষের স্বল্পতা দেখা দেবে। ব্যাহত হবে শিক্ষা কার্যক্রম। এ কারণে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বহুতল কোন ভবন নির্মিত হয়নি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ২০১৮ সালে তিনতলা ভবনের বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু অর্থ সংকট দেখিয়ে ২০০০ সালে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। দুই দশক পর নির্মাণাধীন একতলা ভবনের উপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলা নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টিতে ১০তলা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ছয়তলা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ দেয়। সেন্ড পাইলিংয়ের কার্য সম্পাদন করে সয়েল টেস্ট করার পর রিপোর্ট আসে জোগ মাটি। জোগ মাটিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬ তলা ভবন নির্মাণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে খুলনা বিভাগীয় প্রকৌশলী দপ্তরে নতুন করে চাহিদা এবং ডিজাইন চেয়ে পাঠিয়েছেন। নতুন করে চাহিদা পাঠালে সে অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ-পূর্বক টেন্ডারের মাধ্যমে ভবন নির্মিত হবে ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী একাধিকবার সরজমিনে ভবন দু’টি পরিদর্শন করেছেন। তারাও বিষয়টি অবহিত রয়েছেন। এমতাবস্থায় দ্রুত নতুন ভবন বাস্তবায়ন জরুরি।

খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান সরদার বলেন, ‘আমরা অনেকবার সরজমিনে দেখেছি। কর্তৃপক্ষকে বলেছি। প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলা ভাবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। পশ্চিম পাশে দোতলার অংশ রডের সাথে ঝুলে আছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। উনারা বলেছেন ভেঙে ফেললে স্থান সংকুলান হবে না। নতুন বিল্ডিং হবে তারপর। এ কারণে ভাঙেনি।

তিনি বলেন, পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার একটা প্রসিডিউর আছে। যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান। সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক বরাবর তারা আবেদন করবে। এরপর ডিসি স্যার আমাদের একটা চিঠি পাঠাবে, এটা ভাঙার যোগ্য কি না? যোগ্য হলে আমরা রিপোর্ট পাঠাবো ভাঙার জন্য।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন